সাংবাদিক শব্দ ব্যবহার করে দল গোষ্ঠীর দালালী কেন

সাংবাদিক শব্দ ব্যবহার করে দল গোষ্ঠীর দালালী কেন

ইচ্ছে থাকলে ও নিজেদের জাত ও সংগঠন নিয়ে বেশি কিছু বলার ও লিখার নেই।কেননা কথায় আছে থুতু উপর নিক্ষেপ করলে তা আবার নিজের গায়েই পরে।যদি,বেশি কিছু বলি তা আমার গায়েই আবার পড়বে।

তাই সব দিক থেকে সবকিছু ভেবে চিন্তে নিজেদের জাত সম্পর্কে বেশি কিছু না বলায় ভালো।কিন্তু তারপরও একটু বলবো,যতোটুকু না বললেই না।কেননা আজ সাংবাদিকদের নাম শুনলেই মানুষ ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে দেখে।প্রশ্ন কিন্তু কেন?আপনারা হয়তো ভেবে অবাক হবেন!কি, মানুষ সাংবাদিকদের ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে দেখে?হ্যাঁ, সত্যিই তা দেখে। যার মূল কারণ সাংবাদিকরা এখন নানা অপকর্মের সাথে লিপ্ত তাই।সেই সাথে তাদের এখন নানা রূপ।

আমাদের মাঝে নানা ধরণের সাংবাদিক দেখা যায়।যেমন ইয়াবা সাংবাদিক,গাঞ্জা সাংবাদিক,দললীয় দালাল সাংবাদিক,চাঁদাবাজ সাংবাদিক ইত্যাদি ইত্যাদি।এক কথায় হরেক রকমের সাংবাদিক। তবে প্রকৃত সাংবাদিকদের সংখ্যা খুবই কম।আজ সাংবাদিকতা পেশার এতো বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার মূল কারণ যারা “ক” লিখতে কলম ভাঙ্গে,নিজের নাম ও সঠিক ভাবে লিখতে পারেনা। তারাই এখন হয়েছে আমাদের সমাজ তথা দেশ ও প্রবাসের বড় সাংবাদিক।

তারা সংবাদ করতে ও কলাম লিখতে পারুক বা নাই পারুক।তারা কিন্তু গলা ফিতার সাথ কার্ড ঝুলিয়ে কাজের নামে অকাজ গুলো ঠিকিই করতে পারে।তারা এও বুঝে না এ পেশার শর্ত গুলো কি? সাংবাদিক নামক মহান ও সম্মান জনক “শব্দটির” পূর্ণ অর্থ কি?তারা জানে শুধু নাম বিক্রি করে অনায়াসে প্রতারণা,চাঁদাবাজি,ধান্দাবাজি ইত্যাদি এসব করতে।

আর তারা গিরগিটীর মতো মাঝে মাঝেই রং পাল্টায়।আসলে প্রকৃত সাংবাদিকরা কখনো চাঁদাবাজ,ধান্দাবাজ সেই সাথে কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর দালাল হয় না, কারো দালালী করে ও না।কিন্তু আজ কাল দেখা যায় কিছু বাবুরা নিজের নামের পূর্ব সাংবাদিক “শব্দ” ব্যবহার করে রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে চলছে।সাংবাদিক নামক পবিত্র শব্দ নিজের নামের পূর্বে ব্যবহার করে কোন দল বা গোষ্ঠীর ব্যানার নিয়ে চলা,বা সেই দলের পতাকা তলে গিয়ে দলালি করা কতোটা যুক্তিসংগত? আসলে সত্যিই কি তারা সাংবাদিক? নাকি সাংবাদিকের ছদ্মবেশী মুখোশ পড়া স্বার্থ হাসিল করতে আসা সাংবাদিক রূপী কোন এক প্রাণী?

সাংবাদিকতার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো,কোন রাজনৈতিক দলের অনুসারী হয়ে চলা যাবেনা। তাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।এবং সব সময় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন ও করতে হবে।সেই সাথে সঠিক তথ্য দেশ ও জাতির সামনে নির্ভীতে নির্ভয়ে তুলে ধরতে হবে।সেই সাথে মনে রাখতে হবে একজন কলম সৈনিক তথা সাংবাদিক সমাজের দর্পণ ও জাতির বিবেক। তাই এ পেশায় থেকে কোন বা গোষ্ঠীর পতাকা তলে যাওয়া ও তাদের হয়ে দালালী করা নৈতিকতা ভিতর পড়ে না।
এজন্য সাংবাদিকতা করতে হলে আমাদের স্বচ্ছ হতে হবে।কেননা অস্বচ্ছ হয়ে কখনো সাংবাদিকতা করা যায় না।

দেশ ও জাতীর কথা ভেবে নিজেকে প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিলীন করে দেওয়া কেই সাংবাদিকতা বলে।এ পেশায় থেকে কারো দালালী করে বেঁচে থাকা কে সাংবাদিকতা বলে না।মনে রাখতে হবে সাংবাদিকের পবিত্র কলম কখনো কারো কাছে মাথা নত করেনা। তাই আমাদের উচিৎ কোন দল বা গোষ্ঠীর দালালী বাদ দিয়ে নিজের পেশাকে যথাযথ সম্মান করা।সেই সাথে আমাদের নানা রূপের পরিবর্তন ঘটিয়ে একরূপ ধারণ করে চলতে হবে ও দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে হবে।মনে রাখতে হবে, আমরা নিজেরা যখন’ই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করবো তখন’ই দেশ থেকে দুর্নীতি, অপশাসন, নৈরাজ্যতা, স্বৈরাচারীতা এক কথায় সকল অপশাসনের অবসান ঘটবে।অন্যথায় কোন ভাবেই সম্ভব নয় দুর্নীতি, অপশাসন হাত থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা।

লেখক মো.স্বপন মজুমদার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।