জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক, উপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

বিশ শতকের জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ।
তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা।
হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোনা মহুকুমার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় এ কথাসাহিত্যিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের বেলেভ্যু হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ।
তিনি দুই শতাধিক গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস রচনা করেছেন। তার তৈরি করা বিচিত্র সব চরিত্র অসংখ্য মানুষকে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে, স্বপ্নে ভাসিয়েছে। এক একটি চরিত্র পাঠক-দর্শকদের কাছে একেকটি নতুন আবিষ্কার। সাহিত্যের চরিত্রগুলোই বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে তার নাটক-সিনেমায়।
মিসির আলি, হুমায়ূন আহমেদ এর একটি জনপ্রিয় রহস্যময় চরিত্র। এর কাহিনীগুলো রহস্যমাত্রিক। মিসির আলির কাহিনীগ‌ুলো ঠিক গোয়েন্দা কাহিনী নয়, কিংবা ‘ক্রাইম ফিকশন’ বা ‘থ্রিলার’-এর মতো খুনি-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক, বিজ্ঞাননির্ভর এবং প্রচণ্ড যুক্তিনির্ভর কাহিনী। একে রহস্যগল্প বলা চলে।
হুমায়ূন আহমেদের আরেক অনবদ্য সৃষ্টি হিমু।এই চরিত্রটির পুরোপুরি বিপরীত। তরুণ হিমু চলে প্রতি-যুক্তির তাড়নায়, অপরপক্ষে বয়োজ্যেষ্ঠ মিসির আলি অনুসরণ করেন বিশ‌ুদ্ধ যুক্তি। এই যুক্তিই মিসির আলিকে রহস্যময় জগতের প্রকৃত স্বরূপ উদঘাটনে সাহায্য করে। সেসব কাহিনীর প্রতিফলন ঘটেছে মিসির আলি সম্পর্কিত প্রতিটি উপন্যাসে।
তার এই অনবদ্য সৃষ্টি হিমু আজও মাঝে মাঝে দেখা মিলে মধ্যরাতে বা সন্ধ্যায় বা পড়ন্ত দুপুর বা বিকেলে খালি পায়ে হেঁটে চলছে অজানা গন্তব্যে!