করোনা সনদ বাধ্যতামূলক, টিকিট বাতিলের হিড়িক

বিদেশযাত্রায় করোনামুক্তির সনদ বাধ্যতামূলক করায় নতুন সংকটে পড়েছেন বিদেশগামী যাত্রীরা।

বিদেশগামীরা বলছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টা আগে নমুনা দিতে হবে এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট ডেলিভারি নিতে হবে।
এটা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। কারণ দেশে করোনা পরীক্ষা নিয়ে ল্যাবের সীমাবদ্ধতা, যথাসময়ে পরীক্ষার ফল পাওয়ায় জটিলতা রয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলো বলছে, করোনা সনদ বাধ্যতামূলক করার পর টিকিট বাতিলের হিড়িক পড়েছে।
আবার সময়মতো করোনার নেগেটিভ সনদ জোগাড় করতে না পারায় টিকিটের তীব্র সংকটের মধ্যেও সিট খালি যাচ্ছে।
তাই রাজধানীসহ দেশের বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষায় আরো সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আগামী ২৩ জুলাই থেকে আকাশপথে বিদেশগামীদের জন্য করোনা নেগেটিভ পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।
নমুনা প্রদানের সময় পাসপোর্টসহ যাত্রীদের বিমান টিকিট ও পাসপোর্ট উপস্থাপন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।

এ তালিকার ১৬ হাসপাতালের মধ্যে ঢাকায় রয়েছে তিনটি- ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন অ্যান্ড রেফারাল সেন্টার, ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ডসোশ্যাল মেডিসিন। রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটের অস্থায়ী বুথে প্রথম দিনে গতকাল নমুনা দেওয়ার জন্য হাজির হয়েছেন অসংখ্য বিদেশগামী যাত্রী। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই নমুনা সংগ্রহ চলে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে ১৩ জেলায় আজ মঙ্গলবার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

নমুনা দিতে আসা খন্দকার শাহরিয়ার মুরশিদ বলেন, ‘টাকা জমা ও নমুনা দিতে অনেক সময় লাগছে। জানি না সময়মতো রিপোর্ট পাব কি না।
কেন্দ্র না বাড়ালে ভোগান্তি বাড়বে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করোনাবিষয়ক সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সদস্যসচিব ডা. রিজওয়ানুল করিম শামীম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও টিকিট ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেন না।
তাই যাঁদের প্রয়োজন শুধু তাঁরাই কাগজ দেখিয়ে এখানে ঢুকতে পারছেন।
বুথগুলোয় ২৮ জন চিকিৎসক এবং ৬০ জনের মতো অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন।
পরীক্ষার ফল ফোনে এসএমএস, ই-মেইলে কিংবা চাইলে হার্ড কপিও নিতে পারবেন।’

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, ২১ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৯৩৮ জন যাত্রী বিমানে আসা-যাওয়া করেছেন।
এর মধ্যে ১১৫টি ফ্লাইটে ১৬ হাজার ৪৭২ জন বিদেশে গেছেন। আর ১৬৫টি ফ্লাইটে দেশে এসেছেন ২০ হাজার ৪৬৬ জন। তবে জুলাই মাসে যাত্রী চলাচল বেড়েছে।
আগামী দিনে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাই করোনা টেস্ট সেন্টারের সংখ্যা না বাড়ালে যাত্রীদের ভোগান্তি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল আহসান বলেন, ‘বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে গড়ে দেড় হাজার যাত্রী যাতায়াত করছে।
আগামীতে আরো বাড়বে। করোনা সনদ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। তারা বিষয়টি দেখছে, আমরা ফ্যাসিলিটেট করছি।’

এদিকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ বাতিল এবং তারিখ পরিবর্তনের হার বেড়ে গেছে বলে জানাচ্ছে বিমান সংস্থাগুলো।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এমিরেটস আগেই জানিয়েছে, তারা করোনার সনদ ছাড়া যাত্রী পরিবহন করবে না।
এ ছাড়া টার্কিশ এয়ারলাইনসও করোনা সনদ চেয়েছে।

টার্কিশ এয়ারলাইনসের ঢাকা কার্যালয়ের সেলস অ্যান্ড ট্রাফিক অফিসার এজাজ কাদরী বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১৭ জুলাই থেকে আমরা আবার ফ্লাইট শুরু করেছি।
তখনো আমরা করোনা সনদ চেয়েছি, না থাকলেও কাউকে ফেরত পাঠাইনি। এখন সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাই আমরা ২৩ জুলাই থেকে এটি বাস্তবায়ন করব।’