সিরাজগঞ্জের চলনবিলের বিনোদনের কেন্দ্র গুলি পর্যটক পদচারণায় মুখরিত

সিরাজগঞ্জ থেকে ফারুক আহমেদঃ
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, নটর, সিংরা, গুরুদাসপুর মিলে চলনিবল গড়ে উঠেছে। এখানে কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র আছে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে নয় নম্বর, দশ নন্বর ব্রীজ, বিলসা স্বর্ণ দ্বীপ ও কন্দইল ব্রীজ। চলনবিলের ইতিহাস – ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা এবং ভরা বর্ষায় পর্যটকদের নির্মল বিনোদন ও চলনবিলকে উপভোগ্য করতে বিনোদন কেন্দ্র গুলি গড়ে উঠেছে। তিনটি উপজেলায় তথা স্বর্ণ দ্বীপ নাটোর ও সিংড়া উপজেলা নয় নম্বর, দশ নম্বর ব্রীজ ও কন্দইল সেতুটি তাড়াশ উপজেলায় সীমান্তে অবস্থিত।

চলনবিলের বিশাল জলরাশির উত্তাল ঢেউ, বিশুদ্ধ বাতাস, শ্রাবণের জোসনা, মেঘ রোদ্দুর খেলা, জেলেদের ডিঙি নৌকায় মাছধরা, পিকনিক পার্টির নৌকায় উন্মাদনা রাশি রাশি ঢেউ ইত্যাদি উপভোগ করা যায় এই বিনোদন কেন্দ্রে গুলিতে বসে ও নৌকা ভ্রমন করে। তাছাড়া চলনবিলে রয়েছে জাদুঘর।

এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ। সেখানে রয়েছে চলনবিলের হাজার বছরের কৃষ্টিকালচার, ইতিহাস – ঐতিহ্যের নানা দর্শন। বর্তমানে জাদুঘরটি সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। পাশে সিংড়া উপজেলা রয়েছে ঘাসি দেওয়ানের মাজার, তাড়াশ উপজেলায় রয়েছে বেহুলা কূপ, জমিদার বাড়ি ও রানি দিঘি। । সলঙ্গায় রয়েছে নবরত্ন,ও সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পার্শে রয়েছে ইকো – পার্ক তাছাড়া উল্লাপাড়া উপজেলায় আছে চড়ুই মুরি পার্ক।

ঐ এলাকার প্রবিণ ব্যক্তিরা বলেন,বঙ্গবন্ধু সেতু বিশ্বের বড় সেতু ও এশিয়ার বড় বিল হচ্ছে চলনবিল। এই সুমস্তু বিনোদন কেন্দ্র গুলি দেশের নানা প্রান্ত থেকে বর্ষায় চলনবিলের নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে ছুটে আসেন নানা পেশার মানুষ। কিন্তু পর্যটকদের বসার জায়গার, গাড়ি পার্কিং – আলোসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে পরিবার নিয়ে কিংবা দলগত ভ্রমণটি উপভোগ্য ছিল না। পর্যটকদের এসব সুবিধা নিশ্চিত করে গড়ে তোলা হয়েছে এসব বিনোদন কেন্দ্রগুলিতে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যপক্ষ ডাক্তার আব্দুল আজিজ আরেক সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় এসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তবে অধ্যপক্ষ ডাক্তার আব্দুল আজিজ মহান সংসদে চলনবিলকে পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পর্যটন মুন্ত্রীর কাছে আবেদন করলেও। বিনোদন কেন্দ্র গুলি গড়ে উঠেছে ব্যক্তি উদ্যোগে। একটা পয়েন্টে প্রশাসন টহল দিলেও বেশ কিছু জায়গায় প্রশাসনের টহল চোখে পড়েনি। আগামীতে পর্যটকদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন পদক্ষেপ নিবে।

গত মঙ্গলবার বিকালে গিয়ে গেছে, চলনবিলের থই থই পানির মাঝে মাটি ফেলে উঁচু করে সেখানে তৈরি করা হয়েছে ঘর। বসার জন্য রাখা হয়েছে চেয়ার টেবিল। কন্দইল ব্রীজে চারিদিকে অথৈই জলরাশির আলপনা সূ্র্য পশ্চিম আকাশে ঢুলে পড়লে বিকালে উপভোগ করা যায় সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম নীল আকাশের লুকোচুরি খেলার দৃশ্য মনের রাজ্যে নিজেকে হারিয়ে নেওয়ার এক অপূর্ব দৃশ্য পর্যটকদের কাছে টানে। বেলা বাড়ার সাথে বাড়ে কন্দইল সেতুতে পর্যটক আনাঘনা ও পদচারণা প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে পর্যটনপ্রমীরা প্রিয় মূহূর্তগুলো একান্তে পার করতে দেখা যায়। তরুণ – তরুণী, আবাল বৃদ্ধা বণিতা সকলের একমাত্র বিনোদন স্পট কন্দইলের ব্রীজসহ চলনবিলের স্পট গুলি। রোদ বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য টেবিলে বসানো হয়েছে পর্যটক ছাতা। রয়েছে বাদাম, পিয়ারা, আমরার ছালাত, চানাচুর বাজা ও চা পান কফিসহ নানা রকম কনজুমার খাবার। রয়েছে টয়লেট সেবা। বেড়ানোর জন্য রয়েছে দ্রূতযান স্পিডবোট, ডিঙি, ইঞ্জিচালিত ছোইওলা নৌকা নিয়ে ভ্রমন চলনবিলের অদূরে হারিয়ে যাওয়া। দরদাম করে ভাড়ায় ইচ্ছামত বেড়ানো যাচ্ছে প্রতিদিন বিকালে বিশেষ করে দুই ঈদে সেতু বিনোদনপ্রেমীদের হয়েউঠে মিলনমেলায়।

বিনোদন কেন্দ্রের উদ্যোক্তা একজন কৃষক। তার নাম মোঃ রমিজুল ইসলাম (৪৫) বিলশা গ্রামেই তার বাড়ি। খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলামের উৎসাহে বিনোদন কেন্দ্রটি তৈরি করছেন তিনি। রমিজুল ইসলাম জানান, চলনবিলের বিলশা বাজারের অদূরে তার পরিবারের ৪০ বিঘা জমি রয়েছে। ও-ই জমির পশ্চিম পাশের মাথায় এক বিঘা জায়গায় জুড়ে গড়ে তুলেছেন ‘স্বর্ণদ্বীব’, নামে বিনোদন কেন্দ্রটি। এ জন্য খরচ হয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা। চলনবিলের উত্তাল ঢেউ থেকে বিনোদন কেন্দ্রটি যাতে ভেঙে না যায় সে জন্য – চার পাশে ইট ও বালির বস্তা ফেলছেন তিনি। গত রোজার ঈদ থেকে চালু হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রটি ।

প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৬০০ মানুষ আসেন এখানে। বেচাবিক্রিও হয় ভালো। তবে বাণিজ্যিক ভাবে চিন্তা করা হয়নি। মানুষের একটু বসার জায়গা আর বিনোদনের কথা ভেবেই এটি করা হয়েছে । বর্ষায় মানুষের সমাগত বেশি হয়। শুকনো মৌসুমে সন্ধ্যার পর ভিড় থেকে। প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে শুরু কনে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে আসেন অবসর কাটাতে। তবে ঈদকে ঘিরে দর্শনার্থীর সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পরে কন্দইল সেতুতে এসে কথা হয় রানিঘি, রানির হাট থেকে আসা বিনোদন প্রেমিক সহিদুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলামসহ কমপক্ষে ২০ জনের সাথে। তাঁদের ভাষ্য উপজেলায় বিনোদনের ব্যবস্থা নেই।

দিনের কর্মব্যস্ত মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস বিকালে হিমেল হাওয়া আর শেষ বিকালে একটু প্রশান্তির চলনবিলের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতেই মূলত আসি। ক্লান্ত ঝেরে ফেলে ফ্রেস হয়ে বাড়ি ফিরি।তারা আরো বলেন, মাননীয় এমপি মহাদয় যদি আরো ভালো করে বিনোদন কেন্দ্র সংস্কার করে গড়ে তোলেন তাহলে নানা শ্রেণীর মানুষ পাবে প্রশান্তি। আর কন্দইল ব্রীজ টানবে আগন্তুকদের। তারা আরো বলেন, আমরা মনে করি, ভালভাবে কন্দইল ব্রীজটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুললে ব্রীজিটির উপর থেকে বিনোদন প্রেমীদের কাছে চলনবিলের সৌন্দর্য কখনও সূর্যাস্তের দৃশ্য রাতের সোনালী জোস্নো নীল আকাশের তারাদের মিতালী সে যেন সবাইকে মগ্নো করবে। চলনবিলের সবুজের আলপনায় অপরূপ চলনবিল সেজে থাকবে।

ফারুক আহমেদ
সিরাজগঞ্জ থেকে।
তাং- ০৬/০৮/২০ইং
০১৭৮৯৪৮৪২৪০