দিল্লি নয়, ঢাকাতেই যুক্তরাজ্যের ভিসার সিদ্ধান্ত দিতে হবে: কিথ ভাজ

তার বাংলাদেশ সফরের বিস্তারিত তুলে ধরে সোমবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বানের কথা জানানো হয়।

কিথ ভাজ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার আগে দীর্ঘ ৩২ বছর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সরকারের আমলে তিনি ভিসা অ্যান্ড এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্স মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা জোরদার করতে স্থানীয়ভাবে সিলেটে একটি ভিসা কেন্দ্র চালু করেন তিনি।

সম্প্রতি সিলেট পরিদর্শনে এসে কিথ ভাজ দেখেন বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্যের ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া এখন সিলেট থেকে করা যাচ্ছে না। এমনকি রাজধানী ঢাকা থেকেও না। যুক্তরাজ্য ভ্রমণের ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়াকরণের জন্য সাক্ষাৎকার দিতে পার্শ্ববর্তী ভারতের নয়াদিল্লি যেতে হচ্ছে।

সিলেটের মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত একটি ডায়াবেটিস চ্যারিটিতে যোগ দিতে সম্প্র্রতি বাংলাদেশে আসেন চ্যারিটির চেয়ারম্যান ভাজ। চ্যারিটির স্থানীয় শাখার আয়োজনে ওই ক্যাম্পে ৩৬৬ জনেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। সফরের সময় ভাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ভাজ ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং যুক্তরাজ্যে ফিরে গিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান।

কিথ ভাজ বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ার বিষয় যাতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেজন্য যুক্তরাজ্য সরকার প্রথমবারের মতো সিলেটে একটি ভিসা কেন্দ্র স্থাপন করে। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না যে, যুক্তরাজ্য ভ্রমণের ভিসার জন্য বাংলাদেশের নাগরিককে নয়াদিলি­ বা অন্য কোনো দেশে গিয়ে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। এ প্রক্রিয়াটি ভিসা আবেদনকারীদের একটি বাড়তি আর্থিক চাপের মাঝে ফেলে।’

তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটি ঢাকা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। একটি মানসম্মত ও আদর্শ বিশ্বের জন্য ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তগুলো আরও স্থানীয়ভাবে, সিলেট থেকেই নেয়া উচিত। যুক্তরাজ্যের পূর্ববর্তী সরকার এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং বর্তমান সরকারেরও ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা উচিত।

যুক্তরাজ্যে যেভাবে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে তাতে এ বিষয়টি এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে চারজন বাংলাদেশি দায়িত্ব পালন করছেন।

কিথ ভাজ আরও বলেন, ব্রেক্সিটের প্রাক্কালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাদার যারা সীমিত সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজ করতে যেতে চান, তাদের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের দিকে বিশেষ নজর রাখবে যুক্তরাজ্য। তাই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণের বিষয়টিকে যুক্তরাজ্যের মাথায় রাখতে হবে।